বিপিএলের ক্ষতি পোষাণোর বিকল্প পথ খুঁজে পেয়েছে কোয়াব-বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ০৭:৩১ পিএম


বিপিএলের ক্ষতি পোষাণোর বিকল্প পথ পেয়ে গেছেন কোয়াব সভাপতি
বিপিএলের ট্রফি। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরে বিপিএল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল খান। তাই ক্রিকেটারদের ক্ষতি পোষাতে টানা দুই দফায় বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন কোয়াবের সদস্যরা। দীর্ঘ আলোচনায় সমাধানের পথও খুঁজে পেয়েছে জানান কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।

এনসিএল-বিসিএলের মতো লিগের ম্যাচ ফি দিয়ে যেন ক্রিকেটাররা পুরো বছর সচ্ছলভাবে চলতে পারে সেটার নিশ্চয়তা চেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) হোম অব ক্রিকেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেছেন মিঠুন।

কোয়াব সভাপতি বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি খেলোয়াড়রা যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এটা তো পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব না। আমি নিশ্চিত, এটা সবাই স্বীকার করবে। এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না। কিন্তু ভবিষ্যতে ১৫০-২০০ জন খেলোয়াড়কে আমরা কিভাবে লাভবান করতে পারি সেটা হতে পারে যে টুর্নামেন্টগুলো হচ্ছে এটার ম্যাচ ফি বাড়িয়ে একটা অ্যামাউন্ট দেওয়া। যেটার মাধ্যমে একজন খেলোয়াড় পুরো বছর সচ্ছলভাবে চলতে পারে। এই বিষয়গুলো আমাদের প্রাপ্তি।

আরও পড়ুন

এর আগে জানা গিয়েছিল, ক্রিকেটারদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিপিএলের সময় অন্য আরেকটি টুর্নামেন্ট করবে বিসিবি। তবে মিঠুন নিশ্চিত করেছেন, বিপিএলের পরিবর্তে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট হচ্ছে না। বিসিবি ও কোয়াবের আলোচনায় মিঠুনের সামনে দুইটি প্রস্তাব ছিল। 

যেখানে একটি টুর্নামেন্ট করে ক্রিকেটারদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া এবং আরেকটি হচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়িয়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটারকে লাভবান করা। মিঠুনরা দ্বিতীয় প্রস্তাবটি বেছে নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, আমাদের কাছে দুইটা অপশন ছিল। একটা হচ্ছে বিপিএলের পরিবর্তে আর্থিকভাবে কোনো একটা সাপোর্ট নেওয়া, আরেকটা হচ্ছে লং টার্ম চিন্তা করা যেটার মাধ্যমে ১৫০-২০০ জন ক্রিকেটার উপকৃত হবে। অবশ্যই, আমরা আমাদের লাল ও সাদা বলের অধিনায়কসহ সব সিনিয়র ক্রিকেটাররা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আমরা ৫০-৭০ জন ক্রিকেটারের কথা চিন্তা না করে ভবিষ্যতে কিভাবে ১৫০-২০০ জন ক্রিকেটারের পাশে থাকতে পারি।

‘এটা যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়। আমরা যে লাভটা চেয়েছিলাম সেটা নিলে এবছরই শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু আমরা এবছর চিন্তা না করে আমাদের ভবিষ্যত তারকারা যেন বেশি লাভবান হতে পারে আমরা সেটা নিয়েই আলোচনা করেছি।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বিপিএলের মাধ্যমে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। ড্রাফটের আগে যারা সরাসরি চুক্তিতে দল পান তাদের কেউ কেউ ১ কোটি কিংবা তার চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। আবার যারা ড্রাফটের টপ ক্যাটাগরিতে থাকেন তাদেরও পারশ্রমিক ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মধ্যে। 

অর্থাৎ তিন ফরম্যাটে খেলা জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার বছরে যতটা বেতন পান দেড় মাসের বিপিএল খেলে তার চেয়ে বেশি আয় করতে পারেন। এ ছাড়াও তরুণ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বিপিএল হচ্ছে নিজেদের মেলে ধরার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। 

তবে ২০২৭ সালে বিপিএল না হওয়ায় সবকিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। বিপিএল না হওয়ার খবরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। যেখানে বিপিএলের ভবিষ্যত ও ক্রিকেটারদের কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব সেসব নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রতিনিধিরা।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission