নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ০১:০৪ পিএম


নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার
নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ধ্বংসস্তূপ এলাকা। ছবি : সংগৃহীত

নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হাজারো মানুষ। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি-এ তথ্য জানিয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়া এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্যায় অনেক সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উড়োজাহাজ ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে আটকে থাকা মানুষকে উদ্ধার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও গলিত পানি নিচের উপত্যকায় নেমে আসে। এর ফলে নদীগুলোতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। শক্তিশালী এই ধসের কারণে ভূমির নিচে কম্পনও সৃষ্টি হয়, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।

বন্যার পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের স্রোত নেপাল ও তিব্বতের উপত্যকার নদীগুলো দিয়ে দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে। এতে ঘরবাড়ি, ভবন, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। এখনো হাজারো মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ধারকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ নিখোঁজ শ্রমিককে খুঁজে বের করা। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেপালের সেনাবাহিনীর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা কাদা, পানি ও ধ্বংসস্তূপে ভরা অন্ধকার সুড়ঙ্গে ঢুকে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। কোথাও কাদার মধ্যে দিয়ে হেঁটে, আবার কোথাও পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পেরিয়ে তারা জীবিতদের খুঁজছেন।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া হেলিকপ্টারচালক বিমল শর্মা সংবাদমাধ্যম এপি-কে বলেন, তিব্বতের কাছের সীমান্ত শহর তিমুরেতে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি হতবাক হয়ে গেছেন। বহু বছর ধরে পরিচিত ওই এলাকা দেখে তার মনে হয়েছে, তিনি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়ছেন।

চীনের অংশেও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। বিশেষ করে তিব্বতের গ্যিরং বন্দর ও আশপাশের এলাকায় কাদাধসের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

চীনে সর্বশেষ রোববারের (৩০ আগস্ট) হিসাবে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশটিতে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।

চীনের উদ্ধারকারীরা প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় পাথর ও ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে জীবিতদের সন্ধান করছেন। পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে গ্যিরং বন্দরের দিকে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি সচল করার চেষ্টা চলছে। সড়কটি চালু করা গেলে দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণ পৌঁছানো সহজ হবে।

দুই দেশের দুর্গত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া যোগাযোগব্যবস্থা ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।


আরটিভি/জেএমএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission