কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ , ০৩:৫০ পিএম


কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডে। ছবি: সংগৃহীত

লেখাচুরি নিয়ে বিতর্কের জেরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের পদ থেকে পদত্যাগের এক সপ্তাহের মাথায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ জেসন আরডেকে। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৪১ বছর।

এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসিতে একটি বাসা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত হলেও প্রাথমিকভাবে এতে কোনো সন্দেহজনক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জেসন আরডের পরিবারের সদস্যরা এক বিবৃতিতে বলেন, প্রিয় একজন বাবা, সঙ্গী, ভাই, চাচা ও সন্তানকে হারিয়ে তারা গভীর শোকে আছেন। পরিবারের দাবি, তাকে ঘিরে চলা ভুল তথ্য ও অবিরাম সমালোচনার চাপ জেসনের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।

গত সপ্তাহে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন জেসন আরডে। তার বিরুদ্ধে লেখাচুরির অভিযোগ ওঠার পর তাকে নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

আরও পড়ুন

যদিও নিজের কিছু একাডেমিক কাজে ভুল থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন জেসন। তিনি বলেছিলেন, অটিজমের কারণে তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে অনুকরণের ওপর নির্ভর করতেন, যার কারণে তার আগের কিছু কাজে ভুল হয়ে থাকতে পারে।

পদত্যাগের সময় তিনি বলেছিলেন, সমালোচনা একাডেমিক জীবনের স্বাভাবিক অংশ হলেও তাকে যে ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও জনসমক্ষে অবিরাম সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা সাধারণ মতবিরোধের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এই চাপ তার এবং তার প্রিয়জনদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে জেসনের গবেষণাকর্ম নিয়ে তদন্ত করে লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, তার গবেষণাকর্মে লেখাচুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ ওঠার পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তার নিয়োগের বিষয়েও স্বাধীন তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়।

জেসনের মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডেবোরা প্রেন্টিস। ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েলও গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এমন ঘটনায় মনে রাখা প্রয়োজন—সমালোচনা ও আলোচনার কেন্দ্রেও বাস্তব মানুষ এবং তাদের পরিবার থাকে।

জেসনের বন্ধু ও সহকর্মীরা জানিয়েছেন, পদত্যাগের পর তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন এবং জনসম্মুখ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন।

জেসন আরডের জীবনের গল্প ছিল সংগ্রাম ও সাফল্যে ভরা। তিনি ১১ বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারতেন না এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়তে বা লিখতে পারতেন না। পরে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। একসময় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান।

তার মৃত্যুতে ব্রিটিশ শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


আরটিভি/জেএমএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission