এনডিটিভির প্রতিবেদন

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৩২ পিএম


আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ থাকলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির দাবি আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এই বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।  

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দিনের এই দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমানে সফরের বিস্তারিত সময়সূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের দাবিসহ একাধিক বিষয়ে রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন

তবে বিএনপি সরকার জানিয়েছে, তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের গতি বেড়েছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্পর্কের বরফ গলাতে গত ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। পরে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিলে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লির কাছে তাকে হস্তান্তরের আবেদন জানায়। ভারত জানিয়েছে, সঠিক আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদনটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে, চলতি মাসের শুরুর দিকে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করলে দুই দেশের টানাপোড়েন আবার সামনে আসে। ঢাকা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ভারতের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া অনুচিত। তবে এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে দিল্লি। সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায়, তারেক রহমান ও ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বৈঠকেও হস্তান্তরের বিষয়টি আলোচনায় ওঠে আসে।

উভয় দেশের মধ্যে সমাধানের অপেক্ষায় থাকা বিভিন্ন সমস্যার দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পানিবণ্টন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তি নবায়নের আলোচনাটি আসন্ন বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া বাণিজ্য ও ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণে ভারতের কাছ থেকে আরও বৃহত্তর সহযোগিতার প্রত্যাশা করছে ঢাকা।
 
ভৌগোলিক সীমানা, কৌশলগত অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর যোগাযোগের স্বার্থেই ঢাকার সঙ্গে একটি স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখা দিল্লির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
 
আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission