শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:৩৯ পিএম
Failed to load the video
এতিমখানায় বেড়ে উঠেই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মুন্নি আক্তার। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর সংসার চালাতে না পেরে মা তাকে রেখে যান সরকারি শিশু পরিবারে। এখানেই বড় হয়েছে মুন্নি। প্রাইভেট পড়ার সুযোগ না থাকলেও নিজের চেষ্টায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে ১২টি বিষয়ের মধ্যে ১১টিতেই পেয়েছে জিপিএ-৫। আর মুন্নির হাত ধরেই প্রথমবার জিপিএ-৫-এর দেখা পেয়েছে বরিশালের এই সরকারি শিশু পরিবার।
মুন্নির বাবা মনির শিকদার ছিলেন দিনমজুর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েন মা কাজল বেগম। অন্যের বাড়িতে কাজ করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় দুই মেয়েকে সরকারি শিশু পরিবারে রেখে দেন তিনি। সেখানেই পড়াশোনা চালিয়ে যায় মুন্নি। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার সময় অনেকেই বলেছিলেন, প্রাইভেট ছাড়া ভালো ফল করা কঠিন। সেই সুযোগ না থাকলেও দমে যায়নি সে। নিজের চেষ্টাতেই প্রস্তুতি নিয়ে এসএসসিতে অর্জন করে জিপিএ-৫।
চিকিৎসার অভাবে বাবাকে হারিয়েছিল মুন্নি। বাবারও ইচ্ছা ছিল, মেয়ে একদিন ডাক্তার হবে। সেই ইচ্ছাই এখন পূরণ করতে চায় সে।
মুন্নির সাফল্যে আনন্দিত শিশু পরিবারের অন্য সদস্যরাও। তাদের কাছে সে এখন এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।
এবার শিশু পরিবার থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে প্রথম জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মুন্নি।
সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক ফারজানা রহমান জানান, দিনমজুর বাবার মৃত্যুর পর আশ্রয় হয়েছিল সরকারি শিশু পরিবারে। সেখান থেকেই এবার এসেছে নতুন অর্জন। এখন মুন্নির লক্ষ্য একটাই— উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।
আরটিভি/এমএইচজে