বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ , ১১:১০ পিএম
Failed to load the video
একটি সাধারণ ওয়াশিং মেশিন। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের কাছে যা খুবই পরিচিত একটি গৃহস্থালি যন্ত্র। অথচ গাজার এই বাস্তুচ্যুত নারীদের কাছে সেটিই এখন যেন বড় এক উপহার। কারণ যুদ্ধ তাদের জীবনকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে দুবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে ওয়াশিং মেশিন যেন বিলাসিতা। পানির সংকটে কখনো দিনের পর দিন ময়লা কাপড়েই থাকতে হয়েছে। আবার যখন পানি মিলেছে, তখন হাতে কাপড় ধুতে ধুতে কারও হাত ফুলে গেছে, কারও দেখা দিয়েছে ত্বকের সমস্যা। যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় তিন বছর ধরে চলা সেই কষ্ট এবার কিছুটা হলেও কমেছে।
গাজা শহরের মুসাব ক্যাম্পে এবার ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য। কাতারের একটি ব্যক্তিগত অনুদনের অর্থে ওয়াশিং মেশিনগুলো সরবরাহ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই সুবিধা এখনো খুবই সীমিত। কারণ নয়টি ক্যাম্পে থাকা প্রায় ১৩শ পরিবারের জন্য রয়েছে মাত্র ছয়টি ওয়াশিং মেশিন।
আর বাসিন্দারাও জানায়, আগে কাপড় বদলানোর পর সেটি আবার হাতে ধুতে হবে এই চিন্তাই আতঙ্কিত করত তাদের। এখন ক্যাম্পে পানি ও ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা হওয়ায় অন্তত সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা কমেছে।
এদিকে এত পরিবারের জন্য মাত্র ছয়টি মেশিন থাকায় সবাইকে নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে কাপড় ধুতে হচ্ছে। ছয় কেজি কাপড় ধোয়ার জন্য দিতে হচ্ছে চার শেকেল। তবে ডিটারজেন্টসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে।
বাসিন্দাদের মতে, এই ওয়াশিং মেশিন হয়তো যুদ্ধের ক্ষত মুছে দিতে পারবে না, ফিরিয়ে দিতে পারবে না হারানো ঘর কিংবা আগের জীবন। তবে যুদ্ধের অসংখ্য দুর্ভোগের মধ্যে অন্তত একটি কষ্ট যে কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে, গাজার এই নারীদের মুখে ফেরা স্বস্তিই যেন তার প্রমাণ।
আরটিভি/এআর